সর্বশেষ
১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য, পথ কতটা কঠিন?
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দিতে চায় সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারের এই লক্ষ্য পূরণে গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ঠিক থাকলে লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন না হলেও কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব। তবে এজন্য কাটিয়ে উঠতে হবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অস্থিরতা। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনীতির দেশ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির আকার প্রায় ৩২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আর তালিকার ২১তম দেশ পোল্যান্ডের অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশও এই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাতারে যেতে চায়।
গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে তা সাড়ে ৪ শতাংশ ছাড়াতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে আইএমএফ। আর আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে এমন প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে আগামী সাড়ে ৮ বছরের মধ্যে দেশের বর্তমান প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে সিপিডি। তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী বছরগুলোতে ৯ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে কি না, সেটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সুরক্ষিত রাখা।
অর্থনীতিকে বড় করতে হলে বর্তমানে চাপের মুখে থাকা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজার বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা জরুরি।
ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ১০ থেকে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। এমনকি ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলেও যে ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা শুধু দেশীয় উৎস থেকে সম্ভব হবে না।
ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল করা না গেলে অর্থনীতির বড় লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিকে বড় করার আগে টেকসই সংস্কারে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে রাজস্ব আদায়। তা না হলে জিডিপির বড় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সংস্কার। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, নীতিগুলো এমনভাবে সমন্বয় করতে হবে যাতে প্রবৃদ্ধি অন্তত ৭-৮ শতাংশের ওপরে নেয়া যায়। তাহলে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি না হলেও বাংলাদেশ কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’ গড়ার রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে দেশ কতটা এগোতে পারবে, তার অনেকটাই স্পষ্ট হবে আসন্ন বাজেট পরিকল্পনায়।
আরও পড়ুন:







