মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

ডেঙ্গু জ্বরে প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন সম্পর্কে যা জেনে রাখা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৫

শেয়ার

শেয়ার

ডেঙ্গু জ্বরে প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন সম্পর্কে যা জেনে রাখা জরুরি
ডেঙ্গু জ্বরে প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন শুধু জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনছবি: পেক্সেলস

ডেঙ্গু জ্বর মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু জ্বরে রক্তে  প্ল্যাটিলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে, যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। ডেঙ্গু হয়েছে শুনলেই সবাই  প্ল্যাটিলেট নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেকেই  প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশনের কথা ভাবেন।

প্ল্যাটিলেট কী

প্ল্যাটিলেট রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং রক্তপাত বন্ধ করে। প্ল্যাটিলেট কমে গেলে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে পারে। একজন সুস্থ মানুষের রক্তে সাধারণত প্রতি মাইক্রোলিটারে ১ দশমিক ৫ লাখ থেকে ৪ দশমিক ৫ লাখ প্ল্যাটিলেট থাকে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তের  প্ল্যাটিলেট দ্রুত কমতে পারে, যা থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া নামে পরিচিত।

 

প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন কখন প্রয়োজন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, রক্তের প্রতি মাইক্রোলিটারে ১০-২০ হাজারের নিচে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকলে এবং রক্তপাতের লক্ষণ (নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়া, মলমূত্রে রক্ত, ত্বকে রক্তক্ষরণ) দেখা দিলে কখনো কখনো প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন হতে পারে। প্ল্যাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের বেশি থাকলে সাধারণত ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হয় না, যদি না রক্তপাতের স্পষ্ট লক্ষণ থাকে।

সতর্কতা: রক্তক্ষরণের আলামত বা লক্ষণ না থাকলে প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন অপ্রয়োজনীয় এবং এটি বরং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে (অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন, সংক্রমণ ইত্যাদি)।

কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে

১. তীব্র পেটব্যথা, অবিরাম বমি, কম রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে।

২. প্ল্যাটিলেট কাউন্ট প্রতি ১০,০০০/L-এর নিচে এবং রক্তপাতের লক্ষণ থাকলে।

৩. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার সন্দেহ হলে।

 

প্ল্যাটিলেট কীভাবে বাড়ানো যায়

১. পুষ্টিকর খাবার: শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাছ, মুরগি)।

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীরের নিজস্ব  প্ল্যাটিলেট উৎপাদনপ্রক্রিয়া সচল রাখতে বিশ্রাম জরুরি।

৩. তরল খাবার: ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, ফলের রস (পেঁপেপাতার রস কিছু গবেষণায় কার্যকর বলে প্রমাণিত)।

৪. বাজারে কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া যেতে পারে।

সচেতনতা ও প্রতিরোধ

১. জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক (অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) না খাওয়া উচিত; কারণ, এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. অযথা আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট মনিটর করুন।

উপসংহার

ডেঙ্গু জ্বরে প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন শুধু জরুরি অবস্থায় প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া  প্ল্যাটিলেট ট্রান্সফিউশন করা উচিত নয়।

ডা. মো. কামরুজ্জামান, ইউনিটপ্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক, বিএমটি, হেমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 
Revolution24TV Footer