মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

‘ভারতকে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে, রাশিয়ার সঙ্গে নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৯

শেয়ার

শেয়ার

‘ভারতকে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে, রাশিয়ার সঙ্গে নয়’
‘ভারতকে আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে, রাশিয়ার সঙ্গে নয়’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো আবারও ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমালোচনা করেছেন। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি এটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

 

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

নাভারো বলেন, ‘মোদিকে শি জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে মেলামেশা করতে দেখা লজ্জাজনক। আমি জানি না তিনি কী ভাবছেন। আমরা আশা করি তিনি বুঝবেন যে, তাকে রাশিয়ার নয়, আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে’।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য উপদেষ্টা একাধিকবার ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই আয়ের অর্থই পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয় হচ্ছে।

‘ট্যারিফের মহারাজা’ মন্তব্য

নাভারো পূর্বে ভারতকে ‘ট্যারিফের মহারাজা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তার দাবি, ভারতের শুল্ক হার বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ‘সমস্যাটা দুই ভাগে বিভক্ত—২৫ শতাংশ হচ্ছে অন্যায্য বাণিজ্যের কারণে এবং বাকি ২৫ শতাংশ হচ্ছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে,’ বলেন তিনি।

 

বিতর্কিতভাবে তিনি ভারতীয় সমাজের জাতপাত প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তার অভিযোগ, “ভারত রাশিয়ার তেল কিনে ব্রাহ্মণরা সাধারণ ভারতীয়দের ক্ষতির বিনিময়ে মুনাফা করছে।” একইসঙ্গে তিনি ভারতকে ‘ক্রেমলিনের লন্ড্রি’ বলে আখ্যা দেন।

 

নাভারোর দাবি, ভারতীয় রিফাইনারিগুলো রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনে প্রক্রিয়াজাত করছে এবং তা আবার উচ্চমূল্যে রপ্তানি করছে। ‘এটি ইউক্রেনীয়দের হত্যা করছে…আর আমাদের ট্যাক্সপেয়ারদের আরও অর্থ পাঠাতে হচ্ছে,’ তিনি অভিযোগ করেন।

ভারতের অবস্থান

ভারত অবশ্য তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। নয়াদিল্লির মতে, রাশিয়ার তেল আমদানি করা হয়েছে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশীয় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে। ভারতের অভিযোগ, মার্কিন পদক্ষেপগুলো ‘অন্যায্য’।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে ভারত রাশিয়া থেকে খুব বেশি তেল আমদানি করত না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর যখন জি-৭ দেশগুলো ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার দামের সীমা আরোপ করে, তখন ভারত সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও স্বীকার করেছে, বৈশ্বিক সরবরাহ সচল রাখতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

Revolution24TV Footer