মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

গাজার মতো ইরানেও ‌‘গণহত্যা চালাচ্ছে’ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:৪৬

শেয়ার

শেয়ার

গাজার মতো ইরানেও ‌‘গণহত্যা চালাচ্ছে’ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র
গাজার মতো ইরানেও ‌‘গণহত্যা চালাচ্ছে’ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটিতে হামলার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে।

বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানজুড়ে ৬০০-র বেশি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে। এর মধ্যে মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবেহ স্কুলে হামলায় ১৬০-র বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন নিষ্ঠুরতার ঘটনা নয়—বরং ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধের একটি পরিকল্পিত ও নির্মম ধারা।” তিনি আরও বলেন, “‘যুদ্ধাপরাধ শব্দটি এই নৃশংসতাকে যথাযথভাবে বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ইরানিদের প্রতি প্রকাশ্য বৈরিতার বক্তব্য বিবেচনায় নিলে এই অপরাধগুলো গণহত্যার শামিল।”

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের বিমান হামলার মাধ্যমে, যেখানে নগর এলাকাগুলোতে হামলা করা হয়। এর মধ্যে শাজারে তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ১৬০-র বেশি শিশু ছিল।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও অস্বীকার করে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামলাটি ইরান নিজেই করেছে।

তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র পুরনো লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে হামলাটি চালায়, যেখানে ভুলভাবে স্কুলটিকে নিকটবর্তী একটি সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

মিনাবে হামলার একই দিনে দক্ষিণ ইরানের লামের্দ শহরের একটি স্কুল ও ক্রীড়া হলও লক্ষ্যবস্তু হয়, এতে অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে, ভিডিও বিশ্লেষণ ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, যা লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিস্ফোরিত হয়ে ছোট টাংস্টেন কণিকা ছড়িয়ে দেয়।

লামের্দের হামলাটি বিশ্বব্যাপী তেমন মনোযোগ না পেলেও মিনাবের ঘটনাটি ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে “নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা ও অমানবিকতার” অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই “গণহত্যার” শিকারদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

তবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচসিআর ) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) উভয়ই এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ১,৩৪০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

Revolution24TV Footer