মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫২

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা বাড়লে মার্কিন সম্পদে প্রবেশাধিকার কঠিন হয়ে যেতে পারে। তিনি বিনিয়োগকারীদের সুযোগ থাকতেই বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

শনিবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ এমন আর্থিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। মার্কিন সম্পদের বিশৃঙ্খল বিক্রি ঠেকাতে এ পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই তাদের সম্পদ বিক্রির সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন।

তিনি লেখেন, “কিছু মালিক তাদের সম্পদ বিক্রি করতে পারছে না। কিছু বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে এক অঙ্কের শতাংশের বেশি বিক্রি করার ওপর গোপন সীমা থাকতে পারে।

তিনি সতর্ক করেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিষয়টিকে সময়-সংবেদনশীল হিসেবে তুলে ধরেন।

ইরানি এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্ড বাজারের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “তাদের সামনের সারি হলো ইয়িল্ড কার্ভ”—যার অর্থ হলো, ট্রেজারি বন্ডের আয় হঠাৎ বেড়ে গেলে যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তা ঠেকানোর চেষ্টা।

গালিবাফ তার মন্তব্যে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর জন্য কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দেশের জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য দায়ী করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অর্থনীতিকে রক্ষার জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা জাল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দেশটি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি।

এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।

এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে প্রতিশোধ নেয়, যার ফলে তেল ও এর উপজাতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

Revolution24TV Footer