মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে উপসাগরীয় দেশগুলোর চার গুণ বেশি ক্ষতি করবে ইরান: ভাইস প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:০১

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে উপসাগরীয় দেশগুলোর চার গুণ বেশি ক্ষতি করবে ইরান: ভাইস প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ালে তার মাশুল গুনতে হবে।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাগাব এসফাহানি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা যেকোনো যুদ্ধাত্মক পদক্ষেপের জবাব দেব। হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে আমাদের তেলকূপসহ যেকোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যেসব দেশ আক্রমণকারীকে সহায়তা করবে তাদের চার গুণ ক্ষতি নিশ্চিত করা হবে।’

ইসমাইল সাগাব আরও বলেন, ‘আমাদের হিসাব আলাদা। একটি তেলকূপের বদলা চারটি তেলকূপ।’

ট্রাম্পের হুমকি

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে। তারা তেল মজুত করতে বা জাহাজে তুলতে পারবে না। গত সপ্তাহে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরান আর্থিকভাবে ধসে পড়েছে! তারা এখনই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়। নগদ অর্থের জন্য তারা হাহাকার করছে! প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার হারাচ্ছে। সেনা ও পুলিশ সদস্যরা বেতন পাচ্ছে না।’

পরে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, এই চাপ অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের তেল পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

গালিবাফের পাল্টা হিসাব

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়েছেন ভিন্ন কৌশলে—তেল সরবরাহ ও চাহিদার অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে।

ওই পোস্টে গালিবাফ বলেছেন, ইরানের হাতে এখনো বেশ কয়েকটি অব্যবহৃত কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে মাত্র। বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং জ্বালানি তেল পাইপলাইন এখনো স্পর্শ করা হয়নি। প্রয়োজনে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে আরও বড় সংকট তৈরি হবে।

বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যে কৌশলগত সুবিধা ছিল—কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া এবং দাম বাড়তে দিয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ—সেগুলো ইতিমধ্যে বড় অংশে ব্যবহার হয়ে গেছে।

গালিবাফ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। সে সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুতর রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

 
Revolution24TV Footer