যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে বড় হওয়া জুলিয়া টিনেট্টি ও ক্যাসান্ড্রা ম্যাডিসনের জীবন ছিল আশ্চর্য মিলের গল্পে ভরা। দু’জনই ছিলেন দত্তক নেওয়া সন্তান, দু’জনের শিকড় ডোমিনিকান রিপাবলিকে, এমনকি তাদের শরীরেও ছিল সেই দেশের পতাকার ট্যাটু। কিন্তু তারা জানতেন না, ভাগ্য তাদের আরও গভীর এক বন্ধনে যুক্ত করেছে।
একটি বারে কাজ করার সময় পরিচয়ের পর দ্রুতই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন টিনেট্টি ও ম্যাডিসন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা আবিষ্কার করেন, দু’জনকেই ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। তাদের চেহারার মিল দেখে আশপাশের মানুষও প্রায়ই বলতেন, তারা যেন বোন।
প্রথমে বিষয়টি মজা হিসেবেই নিলেও পরে তাদের মনে সন্দেহ জাগে—আসলেই কি তারা আত্মীয়? দত্তক নেওয়ার নথি খতিয়ে দেখেও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে তারা আলাদা শহরে চলে যান, যদিও যোগাযোগ বজায় ছিল।
পরবর্তীতে একটি জেনেটিক টেস্টিং কিট ম্যাডিসনের জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি তার জৈবিক পরিবারের খোঁজ পান এবং জানতে পারেন, তার জন্মদাত্রী মা মারা গেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার জন্মদাতা বাবা আদ্রিয়ানো লুনা কোল্লাদোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।
এর কিছুদিন পর এক পুরোনো পরিচিতের মাধ্যমে নতুন তথ্য সামনে আসে—সম্ভবত টিনেট্টিও একই পরিবারের সন্তান। এরপর দুই বন্ধু আবার ডিএনএ পরীক্ষা করান। ফলাফল আসে আড়াই সপ্তাহ পর, এবং তাতেই প্রকাশ পায় বহু বছরের অজানা সত্য: জুলিয়া টিনেট্টি ও ক্যাসান্ড্রা ম্যাডিসন আসলে সহোদর বোন।
এই সত্য জানার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুই বোন ও তাদের বাবা। পরে তারা একসঙ্গে ডোমিনিকান রিপাবলিকে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত হন। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যরা তাদের ছবি ছাপানো টি-শার্ট পরে স্বাগত জানান। আবেগঘন সেই মুহূর্তে বাবা টিনেট্টিকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “মি হিহা” — যার অর্থ, “আমার মেয়ে”।
দীর্ঘদিনের অজানা সম্পর্কের এই পুনর্মিলন এখন সামাজিক মাধ্যমে অনুপ্রেরণামূলক এক মানবিক গল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন:






-6a4a63b0a2950.jpg)
-6a4a7e54a0e09.jpg)