মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ভয়াবহভাবে খালি হয়ে গেছে: মার্কিন সিনেটর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ০৯:৩০

শেয়ার

শেয়ার

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ভয়াবহভাবে খালি হয়ে গেছে: মার্কিন সিনেটর
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ভয়াবহভাবে খালি হয়ে গেছে: মার্কিন সিনেটর

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত এতটাই কমিয়ে ফেলেছে যে দেশটি ভবিষ্যতের অন্যান্য সংঘাতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে রোববার সতর্ক করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলি। তিনি পরিস্থিতিকে চমকে দেওয়ার মতো বলে বর্ণনা করেছেন।

সিবিএস এর ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। 

কেলি বলেন, পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এটিএসিএমএস, এসএম-থ্রি ইন্টারসেপ্টর, থার্ড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের মজুত কতটা কমে গেছে তা স্পষ্ট হয়েছে।

কেলি বলেন, “আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার কত গভীরভাবে খালি হয়ে গেছে, তা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রেসিডেন্ট কোনো কৌশলগত লক্ষ্য, পরিকল্পনা বা সময়সীমা ছাড়াই দেশকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। এর ফলে আমরা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করেছি। এতে আমেরিকান জনগণ এখন কম নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে—তা চীনের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত হোক বা বিশ্বের অন্য কোথাও।”

সিবিএস জানিয়েছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

কেলি সতর্ক করে বলেন, কিছু অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ যদি কয়েক দিনের বদলে কয়েক মাস স্থায়ী হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে রক্ষার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেলি বলেন, এমন সংঘাত কতদিন চলবে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, “যদি এটি কয়েক মাস বা কয়েক বছর ধরে চলে, তাহলে অবশ্যই আমরা আজকের তুলনায় আরও দুর্বল অবস্থানে থাকবো—বিশেষ করে যদি ইরানের এই যুদ্ধ না হতো।”

ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা

কেলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে “অনিবার্য” বলে মানতে অস্বীকার করেন এবং বর্তমান সংকটের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেসিপিওএ  পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন।

তিনি প্রশাসনের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন এবং গোল্ডেন ডোম  ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পকে প্রযুক্তিগতভাবে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন।

কেলি বলেন, “এই প্রযুক্তির পেছনের পদার্থবিজ্ঞান অত্যন্ত জটিল। আমি খুবই নিশ্চিত যে, আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা পাব যা কার্যকর হবে না।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পাশাপাশি পারমাণবিক স্থাপনা, স্কুল ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে ইরান “অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪”-এর আওতায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এপ্রিলের শুরু থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো বহাল আছে।

Revolution24TV Footer