গাজায় ত্রাণবাহী 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র অপহৃত কর্মীদের বিদ্রূপ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ফ্রান্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লোটিলার কর্মীরা চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরের মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং তাঁদের টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এই অমানবিক দৃশ্য দেখে উল্লাস প্রকাশ করছেন ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই আচরণকে 'অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ নিজ নিজ দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারো বেন-গভিরের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ফ্লোটিলায় থাকা ফরাসি ও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রতি নিন্দনীয় আচরণের কারণে আজ থেকে বেন-গভিরের ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মুখে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইসরায়েলের অনেক সরকারি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন উল্লেখ করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। তিনি আরও মন্তব্য করেন, বেন-গভিরের এই কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং তাঁর একের পর এক বিতর্কিত আচরণেরই অংশ।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা করা ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে সাইপ্রাস উপকূলসংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। সে সময় প্রায় ৪৩০ জন অধিকারকর্মীকে 'অপহরণ' করে ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে ওই অধিকারকর্মীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয় ইসরায়েল।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন:






-6a4a63b0a2950.jpg)
-6a4a7e54a0e09.jpg)