মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

খামেনি সবসময় জীবন্ত, আমি তাঁকে বিদায় জানাইনি, জানাবও না: পেজেশকিয়ান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩০

শেয়ার

শেয়ার

খামেনি সবসময় জীবন্ত, আমি তাঁকে বিদায় জানাইনি, জানাবও না: পেজেশকিয়ান
খামেনি সবসময় জীবন্ত, আমি তাঁকে বিদায় জানাইনি, জানাবও না: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আমি ঘোষণা করেছি এবং আবারও ঘোষণা করছি যে, আমি শহীদ নেতাকে বিদায় জানাইনি এবং কখনোই জানাব না। তিনি আমার হৃদয়, চিন্তা ও আমার সামনে সবসময় জীবন্ত আছেন এবং চিরকাল জীবন্ত থাকবেন।’

শনিবার বিকেলে তেহরানে 'ইমাম খামেনি; প্রতিরোধের চিরন্তন নেতা'- শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতার পবিত্র লাশকে শেষ বিদায় দেয়ার অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও অতিথিদের ব্যাপক উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই উপস্থিতি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সংহতি আরও সুদৃঢ় করবে এবং মুসলিম দেশগুলোর জনগণ সন্ত্রাস, সহিংসতা ও গণহত্যাভিত্তিক নীতির বিরুদ্ধে—যা আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো অনুসরণ করছে—আরও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট শহীদ বিপ্লবী নেতার অনন্য মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর মহত্ত্ব, মর্যাদা, নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা ভাষায় বর্ণনা করার ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, আজ জনগণের আবেগ, অশ্রু এবং বিভিন্ন স্থানে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতিই ইরানের জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের কাছে তাঁর অসাধারণ অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ।

পেজেশকিয়ান আরও বলেছেন, শহীদ বিপ্লবী নেতা তাঁর নেতৃত্বের পুরো সময়জুড়ে ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর সব সময় জোর দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে অজস্র ভাষণ ও অবস্থান তুলে ধরেছেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর অপরাধ এবং এ শাসকগোষ্ঠীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পরিকল্পিতভাবে মেধাবী ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হত্যা ও নির্মূল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরানসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে বিভিন্ন রূপে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ইসলামী সমাজকে দুর্বল করা এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাই এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের ঐক্যের স্লোগানকে বাস্তব আচরণে রূপ দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, মুসলমানদের এমন যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা সামাজিক বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বাড়িয়ে দেয়। বরং ঐক্য ও সংহতি বজায় রেখে তাদের জুলুম, আগ্রাসন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার শাহাদাতকে একদিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক, অন্যদিকে গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে পরিচালিত নেতাদের পথ, চিন্তাধারা ও বার্তা শাহাদাতের মাধ্যমে কখনো থেমে যায় না; বরং তা জীবন্ত থাকে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সত্য, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের পথে এগিয়ে যেতে দিক-নির্দেশনা দেয়।

সূত্র: পার্সটুডে

Revolution24TV Footer