মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

নজিরবিহীন সাফল্যের পরও সরানো হলো জিএমপি কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০২:২৯

আপডেট: ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০০:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

নজিরবিহীন সাফল্যের পরও সরানো হলো জিএমপি কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান
নজিরবিহীন সাফল্যের পরও সরানো হলো জিএমপি কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি ড. মো. নাজমুল করিম খান অপরাধ দমনে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েও প্রভাবশালী মহলের রোষানল থেকে রক্ষা পাননি। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাকে ক্লোজ করে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আদেশ কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর চাপে এবং বিএনপির প্রতি অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ, তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জিএমপি অঞ্চলে মাদক, জুয়া, ছিনতাই, ডাকাতি ও হানিট্র্যাপের মতো গুরুতর অপরাধ দমন করেন।

বিশেষ করে আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় মাত্র তিন দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে তিনি প্রমাণ করেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যদি নেতৃত্বে সাহস ও নিষ্ঠা থাকে।

 

সদর দপ্তরের আদেশে তার ঢাকায় থেকে অফিস করার বিষয়টি “অপেশাদার” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এ পদ্ধতিই জিএমপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কমিশনারদের প্রচলিত নিয়ম। তার পূর্বসূরিরাও একইভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা না রেখে একজন কমিশনারকে ঢাকায় থেকে যাতায়াত করায় দোষারোপ করাটা একটি প্রহসনের নামান্তর বলে মনে করছেন অনেকে।

 

ড. নাজমুল করিম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। জাপানে কৃষিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই কর্মকর্তা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও কঠোর অবস্থানের জন্য সুপরিচিত। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তিনি পুনর্বহাল হন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে জিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

তার সময়ে গাজীপুরে ছয় মাসে ২ হাজার ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, হোটেলভিত্তিক অবৈধ ব্যবসা বন্ধ, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পোশাক খাতে অস্থিরতা মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবলে আঘাত এসেছে। এতে প্রমাণিত হয়—এই রাষ্ট্রে দক্ষতা নয়, রাজনৈতিক আনুগত্যই পদোন্নতির মূল শর্ত।

এটি কেবল একজন কর্মকর্তার অপসারণ নয়, এটি পুরো প্রশাসনের প্রতি একটি হুমকি—‘সৎ থাকলে, সাহস দেখালে তুমি একা পড়বে।’

ড. নাজমুল করিম খানের মতো একজন পেশাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ প্রমাণ করে—দেশে আইনের শাসনের চেয়ে ক্ষমতার শাসনই আজ বড় বাস্তবতা।

Revolution24TV Footer