মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩
২৮ ১৪৪৭

News Ticker
22.gif

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া সেই হিমশৈল তৈরি হয়েছিল যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১২:৪৯

শেয়ার

শেয়ার

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া সেই হিমশৈল তৈরি হয়েছিল যেভাবে
টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া সেই হিমশৈল তৈরি হয়েছিল যেভাবে

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিট। উত্তর আটলান্টিকের শান্ত কিন্তু হাড়কাঁপানো শীতের রাতে বিশাল এক হিমশৈলের (আইসবার্গ) সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। ২০ দশমিক ৫ নট গতিবেগে ছুটে চলা টাইটানিক জাহাজটি মাঝসাগরে তীব্রগতিতে আঘাত করলেও সেই হিমশৈল প্রায় অক্ষত ছিল।

স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যে হিমশৈলের আঘাতে টাইটানিক ধ্বংস হয়েছিল, সেটি সাধারণ বরফখণ্ড ছিল না। ১৯০৯ সালে গ্রিনল্যান্ডের একটি হিমবাহ থেকে বিশাল এক বরফখণ্ড ভেঙে সাগরে পড়েছিল। বিশাল সেই বরফখণ্ড থেকেই তৈরি হয় টাইটানিককে ডুবিয়ে দেওয়া ভয়ংকর হিমশৈলটি। ১৯০৯ সালে যখন সাগরে ভাসছিল হিমশৈলটি, প্রায় একই সময়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে শুরু হয়েছিল টাইটানিক জাহাজ তৈরির কাজ। টাইটানিক ছিল হোয়াইট স্টার লাইনের তিন যমজ জাহাজের একটি।

১৯১০ সালে হিমশৈলটি আরও উত্তর মেরুর দিকে চলে যায়। এরপর এটি ল্যাব্রাডর কারেন্ট নামের শীতল স্রোতের কবলে পড়ে দক্ষিণ দিকে যাত্রা শুরু করে। আটলান্টিকের ৪১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে পৌঁছানোর পরই মূলত টাইটানিকের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হিমশৈলটি। অধিকাংশ হিমশৈল এক বা দুই বছরের মধ্যে গলে গেলেও এটি টিকে ছিল প্রায় তিন বছর।

টাইটানিক জাহাজের নকশাকারীদের বিশ্বাস ছিল, টাইটানিকের পানিরোধক প্রকোষ্ঠগুলো জাহাজটিকে সব সময় ভাসিয়ে রাখবে। কিন্তু হিমশৈলের সঙ্গে আঘাতে ফলে জাহাজের ডান দিকের নিচের অংশে থাকা পাঁচটি প্রকোষ্ঠ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যদি কেবল একটি বা দুটি প্রকোষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তবে টাইটানিক হয়তো ভেসে থাকত। কিন্তু পাঁচটি প্রকোষ্ঠে পানি ঢুকে পড়ায় জাহাজের সামনের অংশ ভারী হয়ে সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ কার্পেথিয়া যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে হিমশীতল নীরবতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কার্পেথিয়ার যাত্রী বার্নিস পামার সে সময় হিমশৈলটির একটি ছবি তুলেছিলেন, যা বর্তমানে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রিতে সংরক্ষণ করা আছে।

গবেষক ড্যানিয়েল স্টোন বলেন, বিয়োগান্তক ঘটনাটি না ঘটার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তিন বছর ধরে সাগরে ভাসতে থাকা হিমশৈলটি গলে গিয়ে আয়তনে অনেক ছোট হয়ে আসছিল। হিসাব অনুযায়ী, আঘাত হানার সময় সেটির আয়ু বড়জোর আর এক থেকে দুই সপ্তাহ বাকি ছিল। শুধু তা–ই নয়, টাইটানিক যদি এক ঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছাত অথবা হিমশৈলটি কয়েক শ ফুট দূরে থাকত, তাহলে হয়তো এ ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।
সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন |

Revolution24TV Footer